
নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৯৭৫ সালে ছোট বোনসহ ঘটনাচক্রে বিদেশে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হারিয়েছিলেন বাবা, মা, তিন ভাইসহ আরও অনেক কাছের মানুষকে। তাঁর নিজের প্রাণটা সেই থেকে হুমকির মুখে পড়ে। দেশে ফেরা এক দুঃস্বপ্নের মত ব্যাপার ছিল। পরবাসী এক অনিশ্চিত জীবন তৈরি হয়েছিল। অথচ তাঁর বাবাই এই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা। সকল প্রতিকূলতার মুখে দেশে ফেরেন ১৯৮১ সালে। বাবার রাজনৈতিক দলের হাল ধরেন। কাঁটা বিছানো পথে হাঁটা সেই ব্যক্তিত্ব আজ শুধু দেশের নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও বিরল ইতিহাস গড়া একজন রাজনীতিক। পৃথিবীর একমাত্র নারী রাজনীতিক, যিনি হ্যাটট্রিকসহ সর্বোচ্চ পাঁচবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পর এক বিরূপ পরিবেশে দেশের রাজনীতিতে যুক্ত হবার পর সামরিক শাসনের অবসান ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন সংগ্রামে নামেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। প্রহসনের নির্বাচন হবার আশংকা সত্তে¡ও আন্দোলনের অংশ হিসেবে সামরিক শাসকের অধীনে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন ১৯৮৬ সালে। স্বাভাবিকভাবেই পরাজিত হয় তার দল, স্থান হয় বিরোধী দলে। ১৯৮৮ সালে আর সামরিক শাসকের অধীনে নির্বাচনে যাননি।
১৯৯১ সালে দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ অল্প ব্যবধানে হেরে যায় বিএনপির কাছে। কিন্ত পাঁচ বছর পরের নির্বাচনে, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে প্রথমবার নির্বাচনে বিজয়ী করেন। বিএনপি যায় বিরোধী দলে। প্রথম মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা, থাকেন পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদ।
২০০১ সালে আবার উল্টো ফল হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ হেরে বিরোধী দলে যায়, ক্ষমতায় যায় বিএনপি ও তাদের রাজনৈতিক বন্ধু স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী। তারা ক্ষমতায় থেকে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে জঙ্গিদের দিয়ে গ্রেনেড হামলা করিয়ে। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন শেখ হাসিনা।
২০০৮ সালে আসে আরেকটি সংসদ নির্বাচন। সেবার দেশের ভোটাররা উজাড় করে সমর্থন জানায় শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগকে। তার দল একাই সংসদে দুই তৃতীয়াংশের বেশী আসনে নির্বাচিত হয়। শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। নির্বাচনে খুবই বিশাল ব্যবধানে হেরে বিএনপি হয় বিরোধী দল।
হাসিনা দ্বিতীয় দফা তার সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করে ২০১৪ সালে নির্বাচন দেন, বিএনপি সেবার নির্বাচন বর্জন করে। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয়বার বিপুল ব্যবধানে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় যায়। টানা দ্বিতীয়বার ও সব মিলিয়ে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।
সেই মেয়াদ শেষে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চতুর্থবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। সেবারই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ারও অনন্য নজির গড়েন তিনি। আর চলতি বছর ৭ই জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পর পঞ্চমবার এবং টানা চার মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। যা বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল। এর আগে চারবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বিরল রেকর্ড গড়েন ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরাগান্ধী। সময়ের হিসেবে দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার গৌরবের ইতিহাস পাওয়া যায় কেবল জার্মানিতে, অ্যাঙ্গেলা মের্কেল, যিনি চার বার দেশটির চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করেছেন। শেখ হাসিনা বিশ্বের একমাত্র নেতা, যিনি একটানা চার মেয়াদে এবং মোট পাঁচবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
Leave a Reply