নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজায় ইসরাইলের হত্যাযজ্ঞ ও অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধে বিশ্ব নেতাদের দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে নির্বিচারে নিরীহ নারী ও শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, যা যুদ্ধাপরাধ-মানবতার চরম লঙ্ঘন। এই অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে ওআইসিভুক্ত রাষ্ট্রগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।
সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসি’র সম্মেলনে তিনি এ আহবান জানান। এসময় ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হামলায় হাজারও নারী ও শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজের গর্ভাবস্থার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের সরকার প্রধান ওআইসিসহ মুসলিম বিশ্বকে ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বনা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন‘ একাত্তরে আমি এমন সময় পার করেছি। সে সময় আমি গর্ভবতী ছিলাম। আমার মা আমাকে আমার ছোট ভাইবোনদের নিয়ে কি দুর্বিসহ সময় পার করেছে তা চিন্তা করা যায় না। আমার হৃদয় কাঁদে গাজার নারী শিশুদের এমন অবস্থা দেখে।’
নারীর সমমর্যাদা এবং ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার এবং দল উন্নয়নে নারীর অর্থপূর্ন অংশগ্রহণে বিশ^াস করে। যে কারণেই তার সরকার জাতীয় সংসদসহ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নারীর জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপগুলো মুসলিম দেশগুলোর সংগে বিনিময় করতেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান সরকার প্রধান।
সৌদি আরবের জেদ্দার স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় ওআইসির সদরদপ্তরে ‘ইসলামে নারী: মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কথা বলেন বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তার সরকার ও দলের নেয়া নানা পদক্ষেপ নিয়ে। বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে নারীদের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণে বিশ্বাসী বলেও জানান শেখ হাসিনা।
বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বিশ্বের জন্য ইসলামকে আরো গভীরভাবে জানার তাগিদ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।