
সালমা জাহান মুক্তা : এডিস মশার উৎস ধ্বংস ও প্রজনন বন্ধ করতে না পারায় এ বছর অন্য যে কোন বছরের চেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। একই সাথে এই রোগের ধরনও বদলেছে, তাই মানুষ উপসর্গগুলো ঠিকমত বুঝতে না পারায় চিকিৎসা নিতেও দেরি করছে। এতে মৃত্যুও বাড়ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এ বছর প্রথম ৫ মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৩ গুণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ২ হাজার ১২জন। আর মারা যায় ১৩ জন। ২০২৪ সালের একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৬শ ছাড়িয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের।
ডেঙ্গুর বাহক এডিশ মশা, ঢাকার বহু ডোবা নালা নর্দমা এই মশার উৎসই কেবল নয়, অবাধ প্রজনন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এসব উৎস বন্ধ ও মশা মারার কাজে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের যথেষ্ট তৎপরতাও দেখেন না নগরবাসী।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুর ধরণেও পরিবর্তন এসেছে। এর নতুন উপসর্গগুলোর সঙ্গে সাধারণ মানুষ অপরিচিত। ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন অনেকে। আর এতেই বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি বলে জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবিএম আব্দুল্লাহ।
কীটতত্ববীদ কবিরুল বাশার বলেন, এ বছর ঢাকার বাইরে রোগী বেশি। এটা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশংকা তাদের। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রজনন বাড়তে পারে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে তাই সম্মিলিত প্রয়াস ও মানুষের সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্বর, প্রচন্ড মাথাব্যথা, শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রৃুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহবান জানালেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ডা. নিয়াতুজ্জামান।
ডেগু প্রতিরোধে এডিস মশা ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে ধ্বংস করা জরুরি বলে জানালেন বিশেষজ্ঞরা।
Leave a Reply