নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষা সনদে বিভিন্ন ভুল সংশোধন করতে ঢাকা বোর্ডে বিচিত্র হয়রানির শিকার হন মানুষ। দিনের পর দিন শিক্ষা বোর্ডের এক ভবন থেকে অন্য ভবনে ঘুরতে হচ্ছে তাদের। নিরুপায় হয়ে দ্রুত কাজ হওয়ার জন্য দালালের শরনাপন্ন হচ্ছে অনেকে। ভুক্তভোগীরা জানান, আবেদন করার পর নিয়ম অনুযায়ী সকল কাগজপত্র দেয়ার পরেও সনদ সংশোধন হচ্ছে না, কবে হবে তাও কেউ বলতে পারে না।
রাজধানীর বকশিবাজারে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে প্রতিদিন শত শত মানুষের এমন ভিড় দেখা যায়। কেউ এসেছেন সার্টিফিকেট সত্যায়িত করাতে, কেউ মার্কশিট বা সার্টিফিকেটের ভুল সংশোধন করাতে। তারা এক ভবন থেকে আরেক ভবনে ঘুরছে। কেউ কেউ ক্লান্ত গাছ তলায় বসে আছে।
সার্টিফিকেট বা মার্কশিটে যে কোন ধরনের সংশোধনের আবেদন এখন অনলাইনে করতে হয়। এরপর আবেদনকারীর মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে মিটিংয়ের তারিখ ও সময় জানানো হয়। তবে সেই এসএমএস পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষায় থাকতে হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
তাদের দাবি, সব সনদপত্রের মূল কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম সনদ, এফিডেভিট, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী সনদ, প্রত্যয়নপত্র, বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে সিভিল সার্জনের দেয়া সনদ এবং আবেদনকারীর অভিভাবকসহ নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব কাগজ দেয়ার পরেও কাজ হয় না।
এই সুযোগে এখানে তৎপর কিছু দালাল। তারা শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে কাজ করে দেয়ার নামে আবেদনকারীদের কাছ থেকে টাকা নেয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর তপন কুমার সরকার জানান, ছোটোখাটো সংশোধনের ক্ষেত্রে দ্রুত কাজ হয়ে যাচ্ছে। তবে জন্ম তারিখসহ বড় ধরনের পরিবর্তনে সময় লাগছে। অনলাইনে আবেদন করা এবং সমাধান পেতে ভোগান্তি কমেছে বলে দাবি করেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।