উজ্জ্বল কুমার সরকার নওগাঁ
দেশের রাজনৈতিক পেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে নওগাঁর মহাদেবপুরের আলোচিত টর্চারসেলের মুল হোতা যুবদল নেতা সেই রুহুল আমিন।ব্যবসায়ীক কার্যক্রম শেষ করে গত রোববার (১১ আগষ্ট) রাত ১০ টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন চাউল কল ব্যবসায়ী উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের মৃত বাহার আলীর ছেলে হারুন অর রশিদ।ব্যবসায়ীক বিরোধের জের ধরে এসময় শিবরামপুর গ্রামের মৃত ফরিদ মালের ছেলে আ: লতিফ, পাহাড়পুর গ্রামের মৃত ফারাজের ছেলে জাহাঙ্গীর, বামনসাতা গ্রামের পিন্টু, শিবরামপুর গ্রামের লালবরের ছেলে রুবেল হোসেন, লক্ষণপুর গ্রামের মিজান, নাটশাল গ্রামের শাকিল হোসেন তাকে অপহরণ করে বোয়ালমারি মোড়ে কারিমা অটোরাইস মিলে আলোচিত সেই রুহুল আমিনের টর্চারসেলে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই মাদকের আসর বসিয়ে অপেক্ষা করছিল রুহুল আমিনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন। সে সময় তারা বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবন করে ব্যবসায়ী হারুনের কাছে ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে রাতভর তাকে লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় দিয়ে নির্যাতন করতে থাকে। এ বিষয়ে কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দিয়ে মূমূর্ষ অবস্থায় ভোরবেলা তাকে ছেড়ে দেয়। সেখানে থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে অজ্ঞাত ভ্যান চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে সে সঠিকভাবে চিকিৎসাও নিতে পারছে না। এর আগেও রুহুল আমিন ২০২১ সালের ১৫ আগষ্ট নার্সারী ব্যবসায়ী মিঠুনকে নজিপুর থেকে জোরপূর্বক একটি কারে উঠিয়ে নিয়ে এসে তার টর্চার সেলে আটকে রেখে মুক্তিপণের দাবীতে অমানুষিক নির্যাতন করে। তাদের মুক্তিপণের কাঙ্খিত টাকা দিতে না পারায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তারা মিঠুনের পায়ের রগ কেটে দেয়। মিঠুনের স্ত্রী শ্যামলী রাণী তাকে উদ্ধারে সেখানে গেলে তাকেও বেদম মারপিট করে মাথার চুল কেটে দিয়ে নির্যাতন করা হয়। ঘটনার বেশ কিছুদিন পর র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারও হন রুহুল আমিন। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) হারুন অর রশিদ উপরোক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মহাদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রুহুল আমিন ও আ: লতিফের মোবাইল ফোনে বার বার ফোন দিলেও তারা তা রিসিভ করেন নি। মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।নওগাঁ।