ঢাকায় বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সাভারের আমিনবাজার ও ধামরাইয়ের ইসলামপুরে যানবাহনে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। সেখানে বিএনপি নেতাকর্মী ও তাদের বহনকারী গাড়ি জব্দ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা।
বুধবার সকাল থেকে আমিনবাজার ২৫ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে ঢাকাগামী বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল থামিয়ে যাত্রীদের তল্লাশি করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। এছাড়া ধামরাইয়ের ইসলামপুর এলাকায় তল্লাশিচৌকি বসিয়ে ধামরাই থানার পুলিশ বিভিন্ন পরিবহণে তল্লাশি চালিয়ে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থেকে সমাবেশে অংশ নিতে ঢাকার উদ্দেশে যেতে ইচ্ছুক নেতাকর্মীদের বহনকারী গাড়ি আটকে দেয়।
বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, সকাল ৯টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আতাউর রহমান আতাসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মীরা গণমাধ্যমকে জানান, একটি মাইক্রোবাসে করে বেশ কয়েকজন ঢাকার দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ আমিনবাজারে চেকপোস্টে গাড়ি আটকিয়ে আতা ভাইসহ চারজনকে আটক করে।
ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস ও ট্রাফিক, উত্তর বিভাগ) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী গণমাধ্যমকে বলেন, মহাসড়কে চেকপোস্ট বসানো আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ। দলীয় নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে না। সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সন্তোষজনক উত্তর দেওয়ার পর তারা চলে যাচ্ছেন।
এদিকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ধামরাইয়ের ইসলামপুরে মানিকগঞ্জ ও সাটুরিয়া থেকে সমাবেশে অংশ নেওয়ার উদ্দেশে যাওয়া ১৫টি বাস পুলিশ আটকে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা।
বিএনপি নেতাকর্মীদের বহনকারী বাস জব্দ করা হচ্ছে না দাবি করে ধামরাই থানার ওসি হারুন অর রশিদ বলেন, নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে যদি কোনো গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকে সেগুলো আটক করা হয়ে থাকতে পারে।
সরকার পতনের একদফা দাবিতে যুগপৎ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার জনসমাবেশ করছে বিএনপি। এ মহাসমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি ছিল আগে থেকেই। বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও সমাবেশে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে সমাবেশকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আজকের সমাবেশ থেকে সরকার পতনের বড় কর্মসূচি ঘোষণা আসতে পারে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।