
মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫২ বছর পর অবশেষে শহিদ বুদ্ধিজীবী হিসাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন ১৯৭১ সালে শহিদ হওয়া ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট শামসুদ্দীন আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধর সময় কিশোরগঞ্জের তাড়াইল সদরের সাচাইল গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে শামসুদ্দীন আহমেদ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে রাজশাহীতে দায়িত্ব পালনকালে সংগ্রাম পরিষদের সভায় যাওয়ার সময় শহিদ হন।
এর আগে ২০০৭ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকার জন্য শহিদ শামসুদ্দীন আহমেদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দাবি করে তার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছিল। সে সংবাদ যুগান্তরে প্রকাশিত হয়েছিল।
জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হিসাবে পরিচিত ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দীন আহমেদের পিতা শামসুদ্দীন আহমেদ প্রথম জীবনে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান সুপিরিয়র্স সার্ভিসে কুমিল্লার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে যোগ দেন। তারপর ঢাকা এবং সর্বশেষ মুক্তিযুদ্ধের কিছুদিন আগে রাজশাহীতে তার পোস্টিং হয় সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার হিসাবে। সেখানে রাজশাহীর তানোর থানার সংগ্রাম পরিষদের মিটিংয়ে যাওয়ার পথে পাক বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে তিনি শহিদ (নিখোঁজ) হন। ১৯৭২ সালে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে শহিদ হওয়ার বিষয়টি গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করে।
শহিদ বুদ্ধিজীবী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে গেজেটে তালিকাভুক্ত করায় তার বড় ছেলে ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দীন আহমেদ সেলু বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫২ বছর পরে হলেও শহিদ পিতার বীরোচিত ভূমিকার এমন স্বীকৃতিতে তিনি গর্বিত এবং আবেগাপ্লুত। তবে, এ অসামান্য স্বীকৃতির ঘোষণার আগেই তার মা ও ছোট ভাইসহ অনেক প্রিয়-স্বজন না ফেরার দেশে চলে গেছেনÑএটি-ই দুঃখ ও আফসোস হয়ে থাকবে। তিনি শহিদ বুদ্ধিজীবী হিসাবে তার পিতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকার ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন
Leave a Reply