
ফরিদপুর-২ আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর জন্য ভোট চাইতে এলাকায় এসেছেন তার বড় ভাই আয়মন আকবর বাবলু চৌধুরী। বুধবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে তিনি সালথার রসুলপুরের মাতুতালয়ে পৌছালে তাকে স্বাগত জানান ছোট ভাই লাবু চৌধুরী। দলীয় নেতাকর্মীরাও সেখানে ভীড় করেন।
স্থানীয়রা জানান, মায়ের অবর্তমানে দুই ভাইয়ের পুনঃবন্ধনের এ ঘটনায় এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে বিএনপির অবর্তমানে নিজ দলীয় স্বতন্ত্র প্রতিপক্ষের বিপরীতে তাদের দুই ভাইয়ের একত্রিত অবস্থান সাজেদা অনুসারীদের আশ্বস্ত করেছে। নির্বাচনের মাঠে এতে লাবু চৌধুরীর শক্তি বাড়বে।
স্থানীয় সাংবাদিক নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, বুধবার ঢাকা থেকে প্রথমে ফরিদপুর আসেন আয়মন আকবর বাবলু চৌধুরী। পরে রাত ৮টার দিকে তিনি রসুলপুরের বাড়িতে পৌঁছান।
নুরুল ইসলাম বলেন, বাবলু চৌধুরীর এলাকায় আগমনে এলাকায় নৌকা সমর্থকদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। এতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ কর্মী-সমর্থকেরা বেশ সন্তুষ্ট। দুই ভাই একসাথে নির্বাচনের মাঠে কাজ করার নজির নবীণদেরও উৎসাহিত করেছে।
জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় দশ বছর তিনি সাজেদা চৌধুরীর একান্ত ব্যক্তিগত সহকারি ছিলেন। সেসময় ফরিদপুর-২ আসনের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি পরিচালনা করেন। এখনো নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও তিনি। তবে ২০১৮ সালে বড় ছেলে বাবলু চৌধুরীকে অপসারণ করে ছোট ছেলে লাবু চৌধুরীকে রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
এ সময় শারিরীকভাবে অসুস্থ হওয়ায় নির্বাচনী এলাকাতে কমই সময় দিতেন সাজেদা চৌধুরী। কার্যত সেসময় থেকেই মায়ের আসনের উত্তরাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন দুই ভাই।
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর বড় ছেলে আয়মন আকবর বাবলু চৌধুরী এলাকায় বড় মামা আর কনিষ্ঠ পুত্র শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী ছোট মামা হিসেবে পরিচিত। নানা অভিযোগে বাবলু চৌধুরীর অপসারণের পর লাবু চৌধুরী ২০১৮ থেকে সংসদ উপনেতার রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তবে রাজনীতির মাঠে তারা বিভিন্ন সময়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি তাদের নানা কর্মকাণ্ড ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে নগরকান্দা ও সালথায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। তাদের অনুসারীদের দ্বন্দ্ব-সংঘাতে এলাকার পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠে বিভিন্ন সময়।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এরপর ২০১৪ এবং ২০১৮ এর নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এ আসনে।
২০২১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। ওই বছরের ৫ নভেম্বর উপনির্বাচনে ফরিদপুরের নগরকান্দা, সালথা ও সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ফরিদপুর–২ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শাহদাব আকবর বাবলু চৌধুরী।
Leave a Reply