
পঞ্চগড়-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাটকে তার পদ থেকে সরিয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সারোয়ার বকুলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, রেলপথ মন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।
বুধবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে দলীয় কার্যালয়ে এক সভা শেষে এই ঘোষণা দেন সুজন।
ওই সভায় পঞ্চগড়-১ আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী নাঈমুজ্জামান ভূইয়াসহ দলের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির এমন ঘোষণায় আওয়ামী লীগের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। দলের এই সিদ্ধান্তকে স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়ম বহির্ভূত বলছেন দলের সিনিয়র নেতারা। এ ঘটনার পর নির্বাচনে দলের মধ্যে বড় বিভেদের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড় সুগার মিল মাঠে আওয়ামীলী গের নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হবেন। বুধবার জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে দলের সভাপতি পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থী ও রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী নাঈমুজ্জামান ভূইয়াকে নিয়ে ওই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভায় বসেন। তাদের সাথের যোগ দেন দলের কিছু নেতাকর্মীরাও। পরে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে পথসভায় আকস্মিকভাবে রেলমন্ত্রী সুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাটকে সরিয়ে তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সারোয়ার বকুলের নাম ঘোষণা করেন। পরে তাকে ফুলের মালা পরিয়ে দেন নেতাকর্মীরা। এসময় মিষ্টি বিতরণও করা হয়।
রেলপথ মন্ত্রী সুজন বলেন, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তার পক্ষে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই তার স্থলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সারোয়ার বকুল দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
আবু সারোয়ার বকুল বলেন, আমি সততার সাথে গঠনতন্ত্র মেনে দায়িত্ব পালন করবো। আমি খুবই আনন্দিত। নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে দলের কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, আমি কেন্দ্রে কথা বলেছি। তারা এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। একজন সভাপতি একজন সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন না। দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এই কাজটি করা হয়েছে। এটি সভাপতির মনগড়া ও সংগঠন বিরোধী সিদ্ধান্ত। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান বলেন, সভাপতি এটি স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার তিনি কে? দলের তো সিদ্ধান্তই আছে যে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবে।
Leave a Reply